বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নে জেলে কার্ড ও সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে প্রকৃত জেলেদের একটি অংশ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সুন্দরবনঘেঁষা এই ইউনিয়নের বহু মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন মাছ আহরণ। বছরের পর বছর সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা। প্রকৃত জেলেদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে জেলে কার্ড দেওয়া হলেও তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জেলে কার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ৪০০ জনেরও বেশি নারী জেলে। কিন্তু এত বড় তালিকা থাকার পরও প্রকৃত জেলেদের অনেকে কার্ড পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। আবার কার্ড থাকার পরও অনেকে নিয়মিত সরকারি চাল পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে মাছ ধরলেও তাদের নাম জেলে তালিকায় ওঠেনি। বিপরীতে প্রকৃত জেলে নন—এমন অনেকের কার্ড হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কার্ডধারীদের কেউ কেউ চাল না পেলেও জনপ্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এক জেলে মো. রহিম শেখ বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনে মাছ ধরি, কিন্তু জেলে কার্ড পাইনি। যারা প্রকৃত জেলে না, তাদের অনেকেই কার্ড পেয়েছে।’ আরেক জেলে আজগর শেখ বলেন, ‘কার্ড আছে, কিন্তু চাল পাই না। আমাদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের লোকজন চাল পাচ্ছে।’
শুধু পুরুষ জেলে নয়, নারী জেলেদের সরকারি সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৪০০ জনের বেশি নারী জেলে কার্ডধারী হলেও তাদের সবাই নিয়মিত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
জেলেদের আরও অভিযোগ, একই ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ একাধিকবার চাল পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাদের দাবি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জেলে কার্ডের তালিকা, চাল বিতরণের রেজিস্টার ও সুবিধাভোগীদের তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।
সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সৈকত মন্ডল বলেন, ‘জেলে কার্ড ও চাল বিতরণের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী করা হয়। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরাম আলী ইজারাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় জেলেদের দাবি, জেলে তালিকা মাঠপর্যায়ে পুনঃযাচাই করে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং কার্ডধারী নারী-পুরুষ সব জেলেকে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-a9ecac-720x405.webp)