জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সময়ের দাবি: মুয়াযযম হোসাইন

জুলাই গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সময়ের দাবি: মুয়াযযম হোসাইন

গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বরিশালে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগর শাখা।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় ছাত্র-জনতা, তরুণ, যুবক, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে পুরোনো ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা অব্যাহত রাখা হলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।

মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তিনি প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, জনগণের ভাষা ও প্রত্যাশা বুঝতে হবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনমূলক পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ, মাস্টার মিজানুর রহমান, তারিকুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আমিন, কোতোয়ালি উত্তর থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, কাউনিয়া থানা আমির মোস্তাফিজুর রহমানসহ মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশ শেষে অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বর থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে সদর রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, গির্জা মহল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পুনরায় টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়।

এ সময় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিছিলে অংশ নেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন