আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেছেন, অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে পিছিয়ে থাকা মানেই আমাদের অস্তিত্বের সংকটে পড়া। অ্যাক্রেডিটেশনের কাজ, ডকুমেন্টেশন, ফাইল সাজানো এবং ক্লাস ও গবেষণার বাইরের অতিরিক্ত দায়িত্ব, এসব বাড়তি কাজ নয়; বরং একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত। অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া একটি ডিগ্রির মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
শনিবার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (ব্যাক) অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইআইইউসিতে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. ইয়াসির আরাফাত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের প্রথম অধিবেশনে ‘বিএসি অ্যাক্রেডিটেশনের বিধিমালা, প্রক্রিয়া ও এক্সটার্নাল কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্ট নির্দেশিকা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ও বিশেষজ্ঞ বক্তা প্রফেসর ড. এস. এম. কবির।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী কারিকুলাম অভিযোজন এবং বিএসি অ্যাক্রেডিটেশনের মানদ- ও মূল্যায়ন সূচক’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ও কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স অ্যান্ড ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ তাজিব উদ্দিন।
তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী আরও বলেন, ডিগ্রির মান বলতে আমরা এতদিন যা বুঝতাম, আগামী দিনে সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে। ব্যাকের স্বীকৃতি না থাকলে ডিগ্রির কোনো পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। ফার্মাসির ক্ষেত্রে ফার্মাসি কাউন্সিলের অনুমোদন না থাকলে শিক্ষার্থীরা রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট হতে পারে না। আইনের ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের সনদ না থাকলে গ্র্যাজুয়েটরা আইনজীবী হতে পারে না। অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ ও অন্যান্য সব একাডেমিক বিভাগের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য হবে। যেকোনো অর্জিত ডিগ্রির আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে ব্যাকের অ্যাক্রেডিটেশনের ওপর নির্ভর করবে। অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া একটি ডিগ্রির মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। বর্তমানে দেশে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অভিভাবক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন আর শুধু সুবিশাল ক্যাম্পাস দেখে ভর্তি হন না; তারা দেখেন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগটি অ্যাক্রেডিটেড কি না।
তিনি আরও বলেন, আইআইইউসি থেমে নেই। আমাদের আইকিউএসি এবং বিভাগগুলো ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে। আমরা যদি সময় থাকতে নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে না নিই, তবে বিশ্বমানের শিক্ষার বাজার থেকে ছিটকে পড়তে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিভাগগুলোকে বাজেট, অবকাঠামো কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে কোন বিভাগ কতটা এগিয়েছে, সেটিকে অন্যতম প্রধান মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিন দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শিখতে ও চর্চা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, প্রতিটি বিভাগকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে ব্যাকের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা।
উল্লেখ্য, শনিবার শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হবে আগামী ৩ আগস্ট। আইআইইউসির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের উদ্যোগে এবারই প্রথমবারের মতো বিএসি অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


