কক্সবাজারের কুতুবদিয়া বড়ঘোপ-মগনামা ঘাটে সী-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে গত পাঁচ দিন ধরে। বড়ঘোপ জেটির পল্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সী-ট্রাক ঘাটে ভিড়তে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ সী-ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক হবে তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। এতে যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
জানা গেছে, মাত্র ছয় মাস আগে স্থাপন করা পল্টুনের তিনটি পিলার ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সী-ট্রাকের নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ঘাটে পুরনো ডেনিশ বোট ও স্পিডবোট চলাচল করলেও যাত্রীদের কাছে তুলনামূলক নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত সী-ট্রাকের ওপরই বেশি আস্থা ছিল।
যাত্রী শওকত ওসমান ও রেজাউল করিম বলেন, ঝুঁকি এড়াতে সী-ট্রাকে পারাপারের জন্য ঘাটে এসে তারা দেখেন, সী-ট্রাকটি চ্যানেলের মধ্যে নোঙর করে রাখা হয়েছে। বড়ঘোপ জেটির পল্টুন বিকল থাকায় সী-ট্রাক বন্ধ রয়েছে বলে জানতে পারেন তারা। বর্ষা মৌসুমে এভাবে সী-ট্রাক বন্ধ থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সী-ট্রাক এসটি নিঝুম দ্বীপের মাস্টার একরামুজ্জামান জানান, বড়ঘোপ জেটির পল্টুনের তিনটি পিলার ভেঙে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে সী-ট্রাক পল্টুনে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। পল্টুন মেরামত হলে পুনরায় যাত্রী পারাপার শুরু করা যাবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপসহকারী প্রকৌশলী রুদ্র কুমার দাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বড়ঘোপ জেটির পল্টুন পরিদর্শনে গত বৃহস্পতিবার একটি প্রকৌশলী দল গিয়েছিল। মেরামতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দুই-এক দিনের মধ্যে পৌঁছাবে। পল্টুন মেরামতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী ফোনে পল্টুন মেরামতের বিষয়টি জানিয়েছেন। মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প কোনো ব্যবস্থায় সী-ট্রাকে যাত্রী পারাপার করা যায় কি না, তা নিয়ে ইজারাদারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্বীপবাসীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম সী-ট্রাক চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নিরাপদ নৌযান সংকটের কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

