বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেছেন, যারা মানুষ খুন করে—তাদের দ্বারা কখনোই মানুষের কল্যাণ হতে পারে না। নিজ দলের নেতাকর্মীরাই যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে তারা দেশ ও মানুষের কী কল্যাণ করবে—এ প্রশ্ন আজ সাধারণ মানুষের।
বুধবার ভোলা-১ (সদর), ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) ও ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত পৃথক তিনটি নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ চায়। মানুষের মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে শিশু ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা সুবিধা, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চাকরিজীবী নারীদের জন্য ছয় ঘণ্টা কর্মসময়সহ বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কোনো সংকট হবে না। যাকাতভিত্তিক সমাজব্যবস্থা চালু এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হবে।
তিনি আরও বলেন, ৫৪ বছরের বাংলাদেশে ১২ বার যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই জামায়াতের দুজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেও কেউ তাদের দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১২ তারিখের ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আল্লাহ যদি জামায়াতকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তাহলে জনগণ নির্ভয়ে ও শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারবে।
এদিন সকালে চরফ্যাশন টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, দুপুরে লালমোহন সরকারি হাই স্কুল মাঠে এবং বিকেলে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভাগুলোতে অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ভোলাবাসীর মৌলিক চাহিদার মধ্যে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, নিজামুল হক নাঈম ও অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে।
জনসভাগুলোতে তিনি সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ফুলকপি তুলে দিয়ে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইন ও সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভোলা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, ভোলা-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম, ভোলা-৩ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ও বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, ভোলা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

