বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের দিনমজুর বাসুদেব শীলের দেড় বছরের মেয়ে নন্দিতা জন্মগত হৃদ্রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেও অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না নন্দিতার বাবা-মা। এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. সাজ্জাদ পারভেজ।
নন্দিতার চিকিৎসার জন্য তিনি প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি একটি নেবুলাইজার মেশিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি শিশুটির পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তারও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
বরিশাল সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার গণশুনানিতে মা নীহারিকা রানীর সঙ্গে নন্দিতাও এসেছিল সহযোগিতার আশায়। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এককালীন অনুদানের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হয়, তা জানা ছিল না নীহারিকা রানীর। বিষয়টি জানতে পেরে সাজ্জাদ পারভেজ তাঁকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় অনলাইন ফরম পূরণে সহযোগিতা করেন।
এর কয়েক দিন পর প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে নন্দিতাকে আবার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন তার মা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটির জন্য একটি নেবুলাইজার মেশিন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না।
বিষয়টি জানতে পেরে সাজ্জাদ পারভেজ বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার উদ্যোগে জেনারেল হাসপাতাল সমাজসেবার পক্ষ থেকে নন্দিতার পরিবারের হাতে একটি নেবুলাইজার মেশিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেওয়া হয়।
শুধু চিকিৎসাসহায়তা নয়, নন্দিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে খাদ্যসহায়তারও উদ্যোগ নেন সাজ্জাদ পারভেজ। তার সঙ্গে যুক্ত ‘৮৪ ইভেন্ট’–এর সদস্যরাও পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সাজ্জাদ পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার উদ্যোগে এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘৮৪ ইভেন্ট’ নামের একটি অলাভজনক ও সেবামূলক সংগঠন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ৩২ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, সমাজসেবা কার্যালয়ে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন সময়ে তিনি দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, অনেক অসহায় মানুষ জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ কেউ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ভোগ করছেন। এসব মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

