পটুয়াখালীর বাউফলে আলোচিত বগা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এসে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে রাস্তার ওপর বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ থাকেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এসময় তার সাথে ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বাউফল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও বাউফলের সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদার।
মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জামায়াত এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ একটি সভা মঞ্চ তৈরি করেন। সেখানে মন্ত্রী শেখ বদিউল আলম ও তার ছবি সম্মিলিত ব্যানার থাকলে ও প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে মন্ত্রী মঞ্চে না গিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েই বক্তব্য রাখেন। এসময় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বগা ফেরীঘাট সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, বাউফল-ঢাকা সড়কের বগা পয়েন্টের লোহালি সেতু (প্রস্তাবিত নবম চিন মৈত্রী সেতু) নির্মাণে স্থানীয়দের বহু বছরের দাবি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরাবর ক্ষুদে শিক্ষার্থী আবিরার চিঠির প্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আসেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দুপুর ১টার দিকে সেতুর পশ্চিম তীরে (চর গরবদি) গাড়ি রেখে ফেরিতে বাউফলের বগা এলাকায় আসেন তিনি। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণ মহানগর সেক্রেটারি ও বাউফলের সাংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের করা মঞ্চে মন্ত্রীকে নিয়ে যেতে চাইলে বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরা বাধা দেন।
এ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীসমর্থকরা ড. মাসুদকে লক্ষ্য করে ভুয়া, ভুয়া এবং ‘রাজাকারের দিন শেষ, তারেক জিয়ার বাংলাদেশ’ শ্লোগান দিতে থাকেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সমর্থকরা পাল্টা শ্লোগান দিতে থাকেন।
সেতুমন্ত্রী রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে একই ফেরিতে ফিরে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহতির ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহামুদ ফিরোজ বলেন, মঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নাই। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেতু নির্মাণ নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি না করে বাস্তবায়নে সব দলের সহোযোগিতা থাকা উচিৎ।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

