হঠাৎ করেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সুগন্ধা নদী। রাতের আঁধারে শুরু হওয়া আকস্মিক নদীভাঙনে বরিশালের বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন প্রায় ২০০ গজ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে একটি পুরোনো মসজিদ, খেয়াঘাটের গণশৌচাগার, দুটি বসতভিটা, দুটি দোকানসহ গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আরও কয়েকটি স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙন শনিবার দিনভরও অব্যাহত ছিল। নদীর পাড়ে একের পর এক ধস নামায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন আরও বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সুগন্ধার ভাঙনে ইতিমধ্যে নদীর পেটে চলে গেছে বেশ কিছু স্থাপনা। বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে নবনির্মিত খেয়াঘাট জামে মসজিদ, একাধিক দোকান এবং বাবুগঞ্জ-কেদারপুর খেয়াঘাটসংলগ্ন সংযোগ সড়ক। একই সঙ্গে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর পন্টুন।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনের গতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাবুগঞ্জ বাজারের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর রক্ষায় প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকায় আবারও নদী গিলে নিচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সম্পদ।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ আদনান বলেন, বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এবারও ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বাবুগঞ্জ বাজার এবং তৎসংলগ্ন ঘরবাড়ি ও স্থাপনা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবালের কাছে একাধিকবার আবেদন করে ভাঙনের ভয়াবহতা জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্প জমা দেওয়ার কথা জানালেন এমপি জয়নুল আবেদীন
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় একটি প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া আছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে বাজার রক্ষা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করব।
নদীভাঙন ও জরুরি প্রতিরোধব্যবস্থা সম্পর্কে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বরাবরের মতো আবারও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

