আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নিষেধাজ্ঞার দুই সপ্তাহেও সরকারি সহায়তা পাননি ভোলার জেলেরা

ইউনুছ শরীফ, ভোলা

নিষেধাজ্ঞার দুই সপ্তাহেও সরকারি সহায়তা পাননি ভোলার জেলেরা
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঘাটে নৌকা বেঁধে অলস সময় পার করছেন ভোলার জেলেরা। আমার দেশ

নিষেধাজ্ঞার দুই সপ্তাহেও সরকারি সহায়তা পাননি ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ার তিন লক্ষাধিক জেলে। যার কারণে একদিকে এনজিওর কিস্তি আর দাদনদারদের জাঁতাকলের নিষ্পেষণ অপরদিকে রোজার মধ্যে সংসার পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলেদের। সরকারের তালিকায় এসব জেলেদেরকে মাসে ৪০ কেজি করে ২ মাসে ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো অকার্যকর।

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা নদীর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ শিকারের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এসব জায়গায় সরকারের তালিকায় প্রায় দুই লাখ জেলে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে সরকারি সহায়তার তালিকাভুক্ত ৯০ হাজার ২০০ জেলে জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের আওতায় মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। পাশাপাশি ১৬ হাজার ৬০০ জেলে বিশেষ খাদ্য সহায়তার আওতায় চাল, ডাল, তেল পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো এসব জেলেদের কাছে কোনো ধরনের সহায়তা পৌঁছায়নি। যার ফলে জেলেদের মধ্যে হতাশা আর ঋণের দায়ভার নিয়ে অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে কাটাচ্ছেন তাদের দিন।

বিজ্ঞাপন

ভোলার মেঘনা তেঁতুলিয়া পাড়ের মাছ ঘাট ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা দোকানে অলস সময় কাটাচ্ছেন। আবার অনেকে নৌকা মেরামত করছেন, কেউ কেউ জাল মেরামতের কাজে সময় কাটাচ্ছেন। এমন কয়েকজন জেলে আলী, আলী মাঝি, আলাউদ্দিন মাঝি, মফিজ মাঝি ও রকিব মাঝির সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, রমজান মাসে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কোনো আয় রোজগার নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সরকার যদি দ্রুত চাল বিতরণ করত, তাহলে কিছুটা হলেও আমরা স্বস্তি পেতাম।

ইলিশা মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ফরাজি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকে জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু এখনো সরকারি চাল না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে আছে। এমনকি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে চাল না পেলে খাবারের সংকট হতে পারে। দ্রুত চাল বিতরণ করা হলে জেলেদের কষ্ট কিছুটা কমবে বলে জানায় তারা।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল খুব দ্রুত বিতরণ করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন