নিষেধাজ্ঞা মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা ও মেঘনার কালাবদর নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে চারজনকে আটকসহ মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করে পরে জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া অভিযানে নদী থেকে ১৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তীরে এনে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। পাশাপাশি জব্দ করা ১০ কেজি ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে দেশজুড়ে অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধে জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার অব্যাহত রাখায় তাঁদের পাকড়াও করতে বরিশালের নদ-নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে রোববার সকালে বরিশাল সদর উপজেলাসংলগ্ন মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান চালানো হয়।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন এবং বরিশাল ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে জেলেদের মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা সবাইকে যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এ সময়ে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।” নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ শিকার করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দেশে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

