কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে আগুনের সূত্রপাত, রিসোর্ট পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন কমিটির সদস্যরা।
রোববার জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় সদস্যরা আগুনে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেন এবং অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও রিসোর্ট পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান সাংবাদিকদের বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে এর আগে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কোন মরদেহটি কার, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন নারী, একজন শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পরীক্ষা শেষে পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

