একজন গৃহবধূ থেকে দুইবারের এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। প্রথমবার ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন সংসদে। এবার দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য। ছাত্র-রাজনীতির কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও ঝালকাঠির রাজনীতির মাঠে তিনি বরাবরেই সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনের নলছিটির মোল্লারহাট ইউনিয়নে ইলেন ভুট্টোর শশুরবাড়ি। তার প্রয়াত স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টা জাতীয় পার্টি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে ২০০১ সালে ইলেন ভুট্টো বিএনপিতে যোগ দেন। এর আগে ২০০০ সালে সে সময়ের সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভুট্টোর আকস্মিক মৃত্যুতে ঝালকাঠি-২ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন ইলেন ভুট্টো। কিন্তু সেই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে তাকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমু। এরপর ২০০১ সালে ইলেন ভুট্টো বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে আমির হোসেন আমুকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এরপরে দীর্ঘ সময় তিনি বিএনপির সাথেই ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় তাকে আবারও মনোনয়ন দেয় বিএনপি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবারও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে নির্বাচিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা যায় ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। বরিশাল বিভাগে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি আলোচনায় ছিলেন।
সারা দেশে নির্বাচিত ৭ জন নারীর মধ্যে ইলেন ভুট্টো একজন
ইলেন ভুট্টো প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু আমার দেশকে বলেন, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো কখনো বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাননি। সে আলোকেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ইলেন ভুট্টোকে পুনরায় মনোনয়ন দিয়েছে। ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখে বিপুল ভোটে বিজয় হয়েছেন।
ইলেন ভুট্টোর বিজয় সম্পর্কে ঝালকাঠি
জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর আমার দেশকে বলেন, জনমত জরিপ ও এলাকার ভোটারদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপি'র চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত করেছেন। তবে তাঁর চলার পথ সহজ ছিল না। জেলা বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিরোধিতার কারণে ভোটের আগে দলীয় কর্মীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটারদের মন জয় করে বিজয় হয়েছেন।
ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো আমার দেশকে বলেন, ঝালকাঠি সদর ও নলছিটির জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে এজন্য তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিএনপি'র চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন তার প্রতিদান দিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আগামীতে এলাকার উন্নয়নই হবে আমার আসল কাজ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

