সড়কের আগাছা পরিষ্কারের নেশা রাজমিস্ত্রী রিংকুর

সড়কের আগাছা পরিষ্কারের নেশা রাজমিস্ত্রী রিংকুর
কাজের ফাঁকে কিংবা কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে রাস্তার আগাছা পরিষ্কার ও গাছ রোপণ করেন আবদুল্লাহ আল নোমান রিংকু

পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রী। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে কাজের ফাঁকে কিংবা কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে নিজের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশের আগাছা পরিষ্কার, গাছ রোপণ এবং সড়কের পাশে পড়ে থাকা মৃত প্রাণী মাটি চাপা দিয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছেন আবদুল্লাহ আল নোমান রিংকু। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

আবদুল্লাহ আল নোমান রিংকু কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার মরহুম নজির আহমেদের ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। দীর্ঘদিন ধরে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে স্ত্রী রুজিনা বেগম ও তিন সন্তানের সংসার চালিয়ে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া বা ফেরার পথে রিংকু শাহ ফখরুদ্দিন সড়কের করপাটি, মরকটা, মাসকরা, চন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কোদাল ও দা দিয়ে সড়কের দুই পাশের আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেন। শুধু তাই নয়, সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করেন এবং সড়কের পাশে পড়ে থাকা মৃত প্রাণী মাটি চাপা দিয়ে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ রোধের চেষ্টা করেন।

নিজের এসব কার্যক্রমের কিছু অংশ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ‘চৌদ্দগ্রামের কাকা ০৭’ নামের একটি পেজে প্রকাশ করেন। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ তাকে এ কাজের জন্য কটাক্ষ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার উদ্যোগের প্রশংসা করছেন এবং মানবিক এ কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

মানুষের এমন উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়ে সম্প্রতি তিনি পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং মৃত প্রাণী অপসারণের কাজ আরও বিস্তৃত করেছেন।

রিংকুর এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মজুমদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাজ ও পরিবেশের জন্য এ ধরনের কাজ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান রিংকু বলেন, ‘কাজে যাওয়ার সময় বা ফেরার পথে সওয়াবের আশায় সড়কের দুই পাশের আগাছা পরিষ্কার করি, গাছ লাগাই এবং মৃত প্রাণী মাটি চাপা দিই। এ কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশা, রিংকুর মতো আরও অনেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনের কাজ আরও সহজ হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন