চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সরকারের নিয়োগকৃত নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে মেনে না নেয়ার ছয়টি কারণ দেখিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার নগরের চট্টগ্রাম ক্লাবে বিএনপির মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা এই ছয় কারণ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছে তারা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, মাত্র ৫৬ দিনের দায়িত্ব পালনকালে বিদায়ী উপাচার্য ড. সায়েমের শিক্ষার্থীবান্ধব ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে তাঁকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া তারা মেনে নিতে পারছেন না। বিপরীতে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নতুন উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের পক্ষে ছয়টি স্পষ্ট কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
এগুলো হলো, আনুষ্ঠানিক সংলাপ এড়িয়ে চলা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দেয়া, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কিতদের নিয়ে প্রবেশ, শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা, রাষ্ট্রিয় সম্পদ বিনষ্ট ও ভাঙচুর। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সংবাদবাদমাধ্যমে আলোচনার কথা বলা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট সময় বা এজেন্ডা নির্ধারণ করেননি ভিসি শেখ শরীফুল আলম। তাছাড়া তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে দেওয়া দেন। যা একটি দায়িত্বহীন ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ১২ অক্টোবর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতামত ও আস্থার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়নে যুক্ত সাবেক কিছু শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা ও উপাচার্য ভবনের সম্পদ নষ্টের অভিযোগও তোলা হয় উপাচার্যের বিরুদ্ধে।
একই বিবৃতিতে সাবেক উপাচার্য ড. সায়েমকে কেন চান শিক্ষার্থীরা তার কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষকতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়েটের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ড. সায়েমের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সুযোগ, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন, জ্বালানি খাতে জনবল তৈরি, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে চুয়েটে দীর্ঘ ৩৬ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর গত ২৮ অক্টোবর থেকে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন। তবে স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরা কোনোভাবেই নবনিযুক্ত উপাচার্যের গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি নয়। সরকার যদি অবিলম্বে ড. সায়েমকে পুনর্বহাল না করে এবং নতুন উপাচার্য পুনরায় ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আবারও সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ ও ক্লাস বর্জনের কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
Ñএমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

