প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর: আটক ২, হোটেল সিলগালা

উপজেলা প্রতিনিধি, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর: আটক ২, হোটেল সিলগালা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রেসক্লাব থেকে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে এবং সংশ্লিষ্ট একটি আবাসিক হোটেল সিলগালা করা হয়েছে।

জানা যায়, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে সাংবাদিক ও থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আহত অবস্থায় তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় স্থানীয় মাতৃছায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ দৈনিক বাংলাদেশের খবরের জেলা প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক ত্রিনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপ্তাহিক ত্রিনদী পত্রিকার অনলাইন পেজে মাতৃছায়া আবাসিক হোটেলের অনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন হোটেল মালিক। পরে তিনি সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একদল লোক নিয়ে প্রবেশ করে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে আটক রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত হোটেল মালিক ও তার ছেলেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে তিনজন নামীয়সহ অজ্ঞাত ১০–১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব, হাজীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি ও হাজীগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্ত আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...