নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জমি বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করতে অন্তঃসত্ত্বা ছোট বোনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ভাইসহ তিনজনকে পৃথক স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
শনিবার দুপুরে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার কুকরাইলের মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে প্রধান আসামি বড় ভাই মোহাম্মদ হোসেনকে (৪৯) র্যাব ১৪ এর সহযোগিতায় টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার দিগরাবাইদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাকছুদা আক্তার মালা (৩২), যিনি উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের পূর্ব চরমজিদ গ্রামের মো. হোসেনের স্ত্রী এবং জাহানারা বেগম (৫৫), যিনি একই গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিকটিম হালিমা খাতুন, আসামি মো. হোসেনের (৪৯) ছোট বোন। ভিকটিম তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পৈত্রিক বাড়ির সম্পত্তি ক্রয় করে লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা পরিশোধ করেন। গত ৫ মে বড় ভাইয়ের কথামতো ভিকটিম লিখিত স্ট্যাম্পটি ফেরত নেয়ার জন্য ভাইয়ের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে বড় ভাই হোসেন, জাহানারা বেগম ও মালা পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের প্রদত্ত টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের হাত-পা ধরে মাথার বাম পাশে, চোখ, নাক ও বাম গালের উপর ইট দিয়ে গুরুতর আঘাত করেন। ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মে রাত ১০টার দিকে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভের শিশুসহ তার মৃত্যু হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চর জব্বর থানার এসআই মাহমুদুল হক শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জানান, প্রধান আসামি নিহতের বড় ভাই হোসেনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। সাতক্ষীরা থেকে র্যাবের বিশেষ অভিযানে আটক হোসেনের স্ত্রী মাকছুদা আক্তার মালা (৩২) ও তার শাশুড়ি জাহানারা বেগমকে (৫৫) শনিবার বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা থেকে চরজব্বর থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর রোববার দুপুরে তাদের আদালতে নেয়া হবে।
এ ঘটনায় র্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি বড় ভাই মোহাম্মদ হোসেনকে (৪৯) র্যাব ১৪ এর সহযোগিতায় টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার দিগরাবাইদ এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবার বাদি হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিল। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

