ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মাহিদা (৭) নামের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আন্দিদিল গ্রামে একটি ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মাহিদা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় একটি মাদরাসায় নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, মাহিদাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তারই চাচা জাহিদুল। ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত জাহিদের বাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানায় নিয়ে আসেন।
তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, দুপুরের দিকে মাহিদার মা ছোট ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য উপজেলা শহরে যান। এ সময় তিনি তার দুই মেয়েকে ঘরে রেখে যান। ফাঁকা বাড়িতে চাচা জাহিদুল ভাতিজি মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে একটি ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম বাড়িতে ফিরে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে জাহিদের ঘরে প্রবেশ করে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন এবং অচেতন অবস্থায় মাহিদাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণ ও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জাহিদুলকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

