চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ায় রাতের আঁধারে ট্রাকে করে বস্তাবন্দী সাদা পাউডারজাতীয় শিল্পবর্জ্য এনে গভীর গর্তে মাটিচাপা দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে। বাঁশবাড়িয়া বাজারের দক্ষিণে ভাড়া নেওয়া একটি জায়গায় এক্সকাভেটর দিয়ে গর্ত খুঁড়ে এসব বর্জ্য ফেলার ঘটনায় এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অনুমোদনহীনভাবে কেমিক্যাল বা শিল্পবর্জ্য ফেলার ঘটনাটির সঠিক নিরপেক্ষ তদন্ত, নমুনা পরীক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গত ২৮ অক্টোবর সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ইস্পাত কারখানার বাউন্ডারির ভেতরের জমিতে রাতের আঁধারে ট্রাকে করে কেমিক্যালজাতীয় পদার্থ আনা হচ্ছে। পরে লং-আর্ম এক্সকাভেটর দিয়ে গর্ত খুঁড়ে সেগুলো ঢেকে ফেলার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল মনসুর জানান, কোনো রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া জনবসতি বা কৃষিজমির পাশে কেমিক্যাল মাটিচাপা দেওয়া হলে এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি ও কৃষি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মো. মহসিন জানান, হংকং কনভেনশনের আলোকে শিপ রিসাইক্লিং শিল্প সম্পূর্ণ পরিবেশসম্মত উপায়ে পরিচালনায় কাজ চলছে। জাহাজ ভাঙার পর কোনো বর্জ্য উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ছাড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা বা সাগরে ফেলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষ করে এলএনজি জাহাজে ব্যবহৃত পারলাইট পাউডার সমুদ্রে বা জলাশয়ে ফেললে অক্সিজেনের তীব্র সংকট তৈরি হয়ে জীববৈচিত্র্য বিনাশ হতে পারে উল্লেখ করে বিএসবিআরএ সভাপতি বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু মালয়েশীয় কাঠের বাক্সের চিহ্ন এবং সাদা পাউডারটি কস্টিক, পার্লাইট নাকি অন্য কোনো বিষাক্ত কেমিক্যাল—তা স্পষ্ট নয়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, “গ্রিন শিপইয়ার্ড কিংবা পরিবেশ সুরক্ষার শর্তের বাইরে গিয়ে কোনো অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে বা বেআইনিভাবে বর্জ্য মাটিচাপা দেওয়া হলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে ঘটনার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে বর্জ্যের নমুনা পরীক্ষা করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


