বাঁশখালীর মৃৎশিল্পীদের দুর্দিন, বদলাচ্ছেন পেশা

বাঁশখালীর মৃৎশিল্পীদের দুর্দিন, বদলাচ্ছেন পেশা
বাঁশখালীর কুমারপাড়ায় চলছে মাটির পণ্য তৈরির কাজ। ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিভিন্ন কুমারপাড়ায় কারিগররা নান্দনিক মৃৎশিল্পকে এখনো ধরে রাখলেও তাদের এখন দুর্দিন চলছে। তবে পুঁজি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও বাজার সংকটে সম্ভাবনাময় এ শিল্প এখন অনেকটাই হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এ মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে আর্থিক সংকটে পেশা বদলাচ্ছেন এ শিল্পের কারিগররা । কারিগররা চাকা ঘুরিয়ে তৈরি করছেন মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলের টপসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও শৌখিন জিনিস।

আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহারের কারণে প্রাচীন এ মৃৎশিল্পে টিকে থাকার লড়াই করছেন। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কারিগরদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নতুন নকশার পণ্য তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পুঁজি ও আধুনিক যন্ত্রের অভাবে পিছিয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।

বিজ্ঞাপন

বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধনপুর ও উত্তর সাধনপুরের রৌদ্রপাড়ায় প্রায় শতাধিক পরিবার, কালীপুর ইউনিয়নের কুমারপাড়ায় সাত থেকে আটটি পরিবার, বাঁশখালী পৌরসভার পূর্বাংশের কুমারপাড়া, পুকুরিয়া ও চাম্বল ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এখনো কুমাররা মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকানির্বাহ করছেন। কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ পেশা তাদের কাছে শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বাপ-দাদার ঐতিহ্যেরও অংশ। একসময় গ্রামের ঘরে ঘরে মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলস, সরা, মালসা ও নানা ধরনের তৈজসপত্র ছিল নিত্যদিনের ব্যবহার্য। রান্নাঘর থেকে পূজার আয়োজন সবখানেই ছিল মাটির তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার। সময়ের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কমে গেছে মৃৎশিল্পের পণ্যের চাহিদা । বাঁশখালীর কয়েকটি কুমারপাড়ায় এখনো বংশ পরম্পরায় টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। তবে পুঁজি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও বাজারসংকটে সম্ভাবনাময় এ শিল্প এখন অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে।

কারিগররা জানান, চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকা, বান্দরবান ও বাজালিয়া থেকে পাইকাররা তাদের তৈরি পণ্য কিনতে আসেন। তবে পুরোনো পদ্ধতিতে তৈরি পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য সীমিত হওয়ায় বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কম। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নকশা ও পর্যাপ্ত পুঁজি পাওয়া গেলে এ শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সাধনপুর রৌদ্রপাড়ার কারিগর সঞ্জিত রুদ্র প্রায় এক যুগ ধরে এ পেশায় আছেন। মা-বাবা অসুস্থ হওয়ার পর পারিবারিক ঐতিহ্যের এ পেশাকে আঁকড়ে ধরেন তিনি। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আধুনিক পদ্ধতিতে কাজ করার কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পুঁজি না থাকায় এখনো পুরোনো পদ্ধতিতেই কাজ করতে হচ্ছে তাকে।

বাঁশখালী উপজেলা এনজিও বিষয়ক সমন্বয়কারী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সাধনপুরের কিছু কারিগর আমাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। তাদের সহজ কিস্তিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে বসে কীভাবে এ শিল্পকে সমৃদ্ধ করা যায়, তা দেখব।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শওকতুজ্জামান বলেন, মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত কেউ আমার অফিসে আসেননি। তারা এলে সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। প্রশিক্ষণ সনদ থাকলে ঋণ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন