পলাতক এমপি বাহারের অনিয়ম

কুমিল্লা আদালতে নিম্নমানের লিফট, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা

কুমিল্লা আদালতে নিম্নমানের লিফট, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা
ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লা আদালত ভবনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা লিফট নিয়ে উঠেছে নিম্নমান ও অনিয়মের অভিযোগ। নিয়মিত লিফট বিকল ও মাঝপথে আটকে পড়ার ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি ১০ তলা। ভবনের বিভিন্ন তলায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আদালত ও বিচারিক কার্যক্রম। প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিপুলসংখ্যক মানুষ লিফট ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লিফটটিতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকাল ১০টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের পঞ্চম তলায় যাওয়ার সময় দ্বিতীয় তলায় আটকে পড়েন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের নাজির আবদুল আলীমসহ কয়েকজন। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাদের লিফট থেকে বের করা সম্ভব হয়।

২০১৮ সালে পলাতক এমপি সাবেক বাহারের প্রতিষ্ঠান এমসিএসএমএইচই নাম নিম্নমানের লিফট লাগিয়েছিল বলে জানান কুমিল্লা গণপূর্ত কার্যালয় ।

আবদুল আলীম বলেন, ‘২০২৩ সালেও একবার লিফটে আটকে পড়েছিলাম। সোমবার আবারও দ্বিতীয় তলায় আটকে যাই। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। আর কিছুক্ষণ আটকে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

তিনি অভিযোগ করেন, নিম্নমানের লিফট স্থাপনের কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. কাইমুল হক রিঙ্কু আমার দেশকে বলেন, ‘প্রতিদিনই লিফট আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন আইনজীবী লিফটে আটকে আহত হয়েছেন। একজন সহকর্মীও আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লিফট স্থাপনে অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

এদিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কুমিল্লার নাজির মুমিনুল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহে প্রকৌশলীরা আদালত ভবনে এসে লিফটটি পরিদর্শন করেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই নতুন লিফট স্থাপন করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ‘দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত লিফট যদি বারবার মাঝপথে আটকে যায়, তাহলে এর মান নিয়ন্ত্রণ ও কাজের তদারকি হয়েছিল কীভাবে? লিফট স্থাপনের সময় কী ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে, কাজের মান যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি নাÑ এসব বিষয় এখন খতিয়ে দেখার দাবি করছি । কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহারের নিজস্ব কর্মী দিয়ে এসব কাজ করিয়েছেন ।’

কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান হিরা আমার দেশকে বলেন, গত সপ্তাহে আমরা মেরামত করেছি। আদালত থেকে জানাল বৃহস্পতিবার নাকি দুটি লিফট বন্ধ। নতুন লিফট লাগানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে ।

আদালতের মতো স্পর্শকাতর ও জনসমাগমপূর্ণ স্থাপনায় লিফটের ত্রুটি নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন