শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে হালদার পানি

শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে হালদার পানি
বৃষ্টির পানির সঙ্গে কুয়াইশ বিল দিয়ে হালদায় পড়ছে শিল্প-কারখানার বর্জ্য। এতে ঝুঁকিতে হালদার মা-মাছ। আমার দেশ

চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন, অনন্যা আবাসিক ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শিল্প ও কারখানার বিষাক্ত কালো বর্জ্য কাটাখালী ও বামনশাহী খাল হয়ে এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে পড়ছে। বর্ষা ও বন্যার পানির সঙ্গে এই দূষিত বর্জ্য মিশে হালদার স্বচ্ছ পানির রঙ কালচে ও কালো করে তুলছে। এর ফলে মা মাছ, ডলফিনসহ নদীর পুরো জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কালো পানি পড়ার কারণে শিকারপুর, মধুনাঘাট কুয়াইশ কলেজ এলাকায় দুর্গন্ধে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। এতে বিভিন্ন রোগে ভুগছে মানুষ। জানা গেছে, দেশের একমাত্র মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর পানি দূষণের ফলে পানির রঙ বদলে যাচ্ছে। পানির রঙ কালো হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে হালদা নদীর অবস্থা ঢাকার বুড়িগঙ্গার মতো হয়ে যাচ্ছে বলে নদীপাড়ের ডিম সংগ্রহকারী জানান।

জানা গেছে, এপ্রিল থেকে জুন-জুলাই পর্যন্ত হালদা নদীতে মা মাছ ডিম দেওয়ার মৌসুম। কিন্তু ডিম দেওয়ার ভরা মৌসুমে হালদা নদী দূষিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে এসব বর্জ্য মা মাছসহ জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, হাটহাজারীর মদুনাঘাট ওয়াপদা কলোনি এলাকায় কাটাখালী খাল ও খন্দকিয়াসহ আরো কয়েকটি খালের বিষাক্ত বর্জ্য এসে পড়ছে হালদা নদীতে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ‘অনন্যা’ আবাসিক ও তৎসংলগ্ন আবাসিক এলাকার বর্জ্য প্রকল্পের মূল নালা হয়ে কুয়াইশ, কৃষ্ণ খাল ও খন্দকিয়া খাল হয়ে হালদায় পড়ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের বাহির সিগন্যাল, অক্সিজেন, কুলগাঁও এলাকার কলকারখানা এবং গৃহস্থালির বর্জ্য নালা-নর্দমা হয়ে খালে এসে পড়ে পানি বিষাক্ত হচ্ছে। এরপর তা খালে প্রবাহিত হয়ে নদীতে মিশেছে। হাটহাজারীর মদুনাঘাট থেকে অনন্যা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় এ রকম কালু বর্জ্য, তৈলাক্ত দুর্গন্ধ পানি তীব্র স্রোতে হালদা নদীতে পড়ছে।

শিকারপুর ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান এম লোকমান হাকিমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রাম নগরের উত্তর চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বেশ কিছু কারখানার নালার সঙ্গে ওসব খালের সংযোগ রয়েছে। এখানে আছে জুতা কারখানা, চামড়া কারখানা, বস্ত্র ও পোশাক কারখানা। এসব কারখানার বর্জ্য নগরের বামনশাহী খাল, নালা-নর্দমা ও বিল হয়ে হাটহাজারীর পাঁচটি খালে এসে পড়ে।

হাটহাজারীর উপজেলা শিকারপুর ও দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট স্লুইস গেট এলাকায় হালদায় মিশেছে কাটাখালী খাল। এসব কালো বিষাক্ত বর্জ্য মা মাছসহ নদীর জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে।

এদিকে হালদার প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসের আরেকটি কারণ হচ্ছেÑ এর ৩৬টি শাখা খাল, নদী ও ছড়াগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে স্লুইস গেট নির্মাণ, বাঁধ তৈরির মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।

হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা নদীকে অবশ্যই নগরী ও তৎসংলগ্ন আবাসিক এলাকার বিষাক্ত বর্জ্য দূষণ থেকে বাঁচাতে হবে। নদীতে বর্জ্য দূষণ থেকে বাঁচাতে না পারলে হুমকির মুখে পড়বে হালদা নদীর মা মাছ ও জীববৈচিত্র্য। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...