স্মার্টফোনে নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় অনেক ব্যবহারকারী না ভেবেই ক্যামেরা, অবস্থান, মাইক্রোফোন কিংবা যোগাযোগ তালিকায় প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাকেন। তবে সব অ্যাপের জন্য এসব অনুমতি প্রয়োজন হয় না। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি দিলে ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বর্তমানে ব্যাংকিং, কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছবি সম্পাদনাসহ দৈনন্দিন নানা কাজে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একটি অ্যাপকে অপ্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়াও ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো অ্যাপ ইনস্টলের আগে সেটি কী ধরনের অনুমতি চাইছে এবং সেই অনুমতির প্রয়োজনীয়তা কী, তা যাচাই করা উচিত।
অবস্থানের অনুমতি সীমিত রাখুন
মানচিত্র, রাইড শেয়ারিং বা খাবার সরবরাহ–সংক্রান্ত অ্যাপের জন্য অবস্থানের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তবে অনেক অ্যাপ অকারণেই সার্বক্ষণিক অবস্থানের অনুমতি চায়। এতে ব্যবহারকারীর চলাচল, অবস্থান ও নিয়মিত যাতায়াতের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। তাই প্রয়োজন না থাকলে শুধু অ্যাপ ব্যবহারের সময় অবস্থান ব্যবহারের অনুমতি চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাইক্রোফোন ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন
ভয়েস কল, ভিডিও মিটিং বা অডিও রেকর্ডিং অ্যাপের ক্ষেত্রে মাইক্রোফোনের অনুমতি স্বাভাবিক। কিন্তু ছবি সম্পাদনা, টর্চলাইট বা এ ধরনের সাধারণ অ্যাপ একই অনুমতি চাইলে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ অপ্রয়োজনীয় মাইক্রোফোন প্রবেশাধিকার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ক্যামেরা ও গ্যালারির অনুমতি যাচাই করুন
অনেক অ্যাপ ছবি তোলা বা নির্বাচন করার জন্য ক্যামেরা ও গ্যালারির অনুমতি চায়। তবে সব অ্যাপকে পুরো গ্যালারিতে প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোনে নির্দিষ্ট ছবি নির্বাচন করে শেয়ার করার সুবিধা রয়েছে। তাই সম্ভব হলে পুরো গ্যালারির পরিবর্তে প্রয়োজনীয় ছবিগুলোতেই সীমিত অনুমতি দেওয়া নিরাপদ।
সব অ্যাপের যোগাযোগ তালিকা প্রয়োজন হয় না
মেসেজিং বা যোগাযোগভিত্তিক অ্যাপের জন্য কনট্যাক্টস ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু কোনো গেম বা সাধারণ ছবি সম্পাদনার অ্যাপ একই অনুমতি চাইলে তা ভেবে দেখা উচিত। কারণ যোগাযোগ তালিকার তথ্যও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুমতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে
একবার অনুমতি দিলেই তা স্থায়ী হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে যেকোনো সময় নির্দিষ্ট অ্যাপের অনুমতি পরিবর্তন বা বন্ধ করা যায়। তাই নিয়মিত অ্যাপগুলোর অনুমতি পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বস্ত উৎস থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করুন
অ্যাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অনুমতি নয়, ডাউনলোডের উৎসও গুরুত্বপূর্ণ। অজানা বা অবিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করলে ম্যালওয়্যার বা অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সব সময় নির্ভরযোগ্য অ্যাপ স্টোর বা বিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনে দেওয়া প্রতিটি অনুমতিই ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশের একটি সুযোগ তৈরি করে। তাই প্রয়োজন ছাড়া কোনো অ্যাপকে অতিরিক্ত অনুমতি না দিয়ে সচেতনভাবে ব্যবহার করাই তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


