কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় লাইটহাউসের পাশে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গত বছরের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লাইটহাউস পর্যটন স্পট’ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লাইটহাউস সিবিচ পর্যটন স্পট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
পর্যটকদের সুষ্ঠু বিনোদনের লক্ষ্যে সেখানে বিভিন্ন রাইড, ভ্রমণতরি, আলোকসজ্জা ও দোকানপাট স্থাপন করা হয়। তবে বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া খারাপ থাকায় এমনিতেই পর্যটকের সংখ্যা কম থাকে। বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কুতুবদিয়ায় আসা পর্যটকেরা ঐতিহাসিক বাতিঘরটি দেখে যান। এছাড়া প্রখ্যাত সাধক শাহ আব্দুল মালেক মহিউদ্দিন আল কুতুবীর (রহ.) মাজার কুতুব শরীফ দরবারে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত আসেন। তারাও ঘুরে দেখেন লাইটহাউস পর্যটন স্পট।
বাতিঘরের পাশের দোকানদার নুরুল ইসলাম ও মো. আকিল বলেন, পর্যটন স্পট চালু হওয়ায় আয়-রোজগারের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন এটি বন্ধের নির্দেশনা এসেছে। পর্যটক ও লোকসমাগম না হলে বেচাকেনাও থাকবে না। এতে আমরা লোকসানে পড়ে গেলাম।
স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, বাতিঘর একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এখানে পর্যটকেরা আসেন এবং ভবিষ্যতেও আসবেন। বাতিঘরের সংরক্ষিত এলাকার বাইরে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও আশপাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু শুধু নেভিগেশনের কারণে এটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
লাইটহাউস পর্যটন স্পটের উদ্যোক্তা ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, কুতুবদিয়ার বাতিঘর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। পর্যটকেরা এখানে ভ্রমণে আসেন। এ স্থানের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ বাড়াতে সংরক্ষিত এলাকার বাইরে রাস্তা সংস্কার, নিরাপত্তা, লাইটিং, শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, রাইড ও ভ্রমণতরির ব্যবস্থা করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ড থেকে। এতে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ডিসেম্বরে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু নেভিগেশন-ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণ দেখিয়ে ছয় মাস পর নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে লাইটহাউসের সামনে কোনো ধরনের পর্যটন স্পট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টিকে পরিকল্পিত এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘লাইটহাউস পর্যটন স্পটটির বিষয়ে নেভিগেশন সমস্যার কথা তুলে ধরে পরিষদকে বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পর্যটকেরা কুতুবদিয়ায় এলে অনেকেই বাতিঘর দেখতে যান। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

