কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
বুধবার (২২ জুলাই) ৮ এপিবিএনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এপিবিএন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামতলী এলাকার বাসিন্দা রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল হাফেজ (২০) নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, তিনি রাতে বন্ধুদের সঙ্গে টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি।
পরিবারের অভিযোগের পর ৮ এপিবিএনের জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা অনুসন্ধান শুরু করেন। গোয়েন্দা তথ্য, গোপন সংবাদের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। পরে গত ৪ জুলাই রাতে ক্যাম্প-১৫-এর এইচ/৭ ব্লকে মোহাম্মদ রফিকের বসতঘরের পাশের একটি সেফটিক ট্যাংক থেকে আব্দুল হাফেজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত চলাকালে গত ৬ ও ৭ জুলাই অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আটজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযানে গত ২০ জুলাই রাতে ক্যাম্প-১৪ এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিককে গ্রেপ্তার করে ৮ এপিবিএন।
পরদিন ২১ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া আরও তিন আসামিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
৮ এপিবিএন জানায়, এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আমাদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে প্রধান আসামিসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া চারজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

