৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নজরুল কাণ্ডে ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ

নজরুল কাণ্ডে ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ

ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামিকে আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তার ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

বুধবার (২২ জুলাই) গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুর রহমানকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক রাকিবুল হুদা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

মামলার এজাহারে বাদী ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ওই বাসায় যাতায়াত ছিল।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাদীর ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন এবং এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। এরপর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি কিছু আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। গাজী নজরুল ইসলামের সন্দেহ হয়, ওবায়দুর রহমান ওই ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও একটি চক্রের কাছে সরবরাহ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন আমিনুর রহমান তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে অভিযুক্তরা চলে যান। আহত অবস্থায় ওবায়দুর রহমানকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাদীর আরও অভিযোগ, ঘটনার পরও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বা অন্য আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন