আমার দেশ -এ সংবাদ প্রকাশের পর পাল্টে যাচ্ছে কুমিল্লার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার চিত্র। সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে নান্দনিক ডিসি পার্ক। গত ৭ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকায় ‘বিনোদনের কুমিল্লা বোটানিক্যাল গার্ডেন জঙ্গলে পরিণত’ শিরোনামের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা গেছে, নতুন ডিসি পার্ক প্রায় ১৯ একর জমি নিয়ে করা হচ্ছে । এর উন্নয়ন কাজের জন্য ইতিমধ্যেই পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২০ কোটি টাকার টেন্ডার হবে। এই কার্যক্রমে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে কুমিল্লা জেলা পরিষদ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। নতুন ডিসি পার্কে অত্যাধুনিক সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং বাচ্চাদের বিভিন্ন রাইড এর ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যেই কুমিল্লা ডিসি পার্ক বিনোদন প্রেমীরা তাদের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে ।
৩ মে সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবিত কুমিল্লা ডিসি পার্কের চার পাশের সীমানা প্রাচীরের কার্যক্রম শুরু করেছে ঠিকাদার। পুরো দমে কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কুমিল্লার মানুষের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ১৯৮৬ সাল থেকে জেলা পরিষদ তাদের তত্ত্বাবধানে চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত ৪ বছর ধরে এগুলো বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কুমিল্লাবাসী ।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ লাখ টাকায় চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ইজারা দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৩০ জুন তিন বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জায়গার মালিকানা জটিলতায় ইজারা কার্যক্রম বাতিল করে জেলা পরিষদ। বর্তমানে জায়গাটি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। চিড়িয়াখানাটি বিভিন্ন জাতের আগাছায় ছেয়ে গেছে।
আমার দেশ পাঠকমেলার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মনির বলেন, শিক্ষা সংস্কৃতিতে কুমিল্লা এগিয়ে । কিন্তু এখানে কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। ডিসি পার্কটি আধুনিকভাবে করা হলে কুমিল্লার মানুষ বিনোদনের সুযোগ পাবে। আমাদের দাবি থাকবে পার্ক টি যেন প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের আদলে করা হয়।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, কয়েক বছর ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা বন্ধ ছিল। কুমিল্লার মানুষ বিনোদন বঞ্চিত হয়েছে। নতুন করে ডিসি পার্ক হচ্ছে। আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ডিসি পার্ক হলে কুমিল্লার মানুষ বিনোদনের একটি স্থান পাবে বলে আমি মনে করছি।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার বলেন, ছয় মাসের মধ্যে কুমিল্লা ডিসি পার্কের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকভাবেই তৈরি করা হচ্ছে ডিসি পার্ক। কুমিল্লা মহানগরীর মধ্যে ধর্মসাগর বাদে আর তেমন কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। এজন্য আমরা সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের লক্ষ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার স্থানে অত্যাধুনিক ডিসি পার্কের কার্যক্রম শুরু করেছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

