আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রায়পুরের চরাঞ্চলে খিরার বাম্পার ফলন

জাকির হোসাইন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

রায়পুরের চরাঞ্চলে খিরার বাম্পার ফলন

‎অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর চরভূমির কারণে খিরা চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকেরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিনে দিনে চরাঞ্চলে খিরা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এতে বদলে যাচ্ছে অনেক কৃষকের জীবনের চিত্র, স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে খিরার চাষ হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ খিরার গাছে ছেয়ে গেছে চরাঞ্চল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে হলুদ ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর প্রতিটি ফুলের নিচেই ঝুলছে কচকচে সবুজ খিরা। চরের মাঠ যেন এক অপূর্ব দৃশ্যপট।

বিজ্ঞাপন

‎এ সময় কৃষকেরা ভোরে জমি থেকে খিরা সংগ্রহ করে স্থানীয় আড়ত ও হাট-বাজারে বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব খিরার চাহিদা শুধু স্থানীয় নয়, জেলার বিভিন্ন বাজারেও বেশ ভালো।

‎কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি মণ খিরা উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ খিরা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় খিরা চাষকেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

‎স্থানীয় কৃষকেরা বলেন,‎ ‘চরে খিরার ফলন খুব ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছি। এভাবে দাম পেলে আগামী বছর আরো বেশি জমিতে খিরা চাষ করব।’ কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন খিরার দিকে ঝুঁকছেন।

‎এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এ বছর প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার ফলে খিরা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা লাভের মুখ দেখছেন। ‎

খিরার বাম্পার ফলনে চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে খিরার চাষ রায়পুরের চরাঞ্চলে অর্থনৈতিকভাবে আরো বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসআই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন