আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চট্টগ্রাম-৪ আসনের এমপির ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রাম-৪ আসনের এমপির ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন
ছবি: আমার দেশ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিটে সীতাকুণ্ড উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আলমগীরসহ থানা প্রশাসনের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে, পরে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সীতাকুণ্ড ফ্যাসিবাদমুক্ত প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও ভাষাশহীদদের স্মরণ করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক্তার কমল কদর এবং সঞ্চালনা করেন মো. মোরসালিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন শুধু বাঙালির ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গের এমন বিরল নজির বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা এসেছে। ভাষাশহীদদের আত্মদান আমাদের জাতীয় জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসার মাধ্যমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানজুড়ে ভাষাশহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বকীয়তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন