সাপ্তাহিক হাটের দিনে ক্রেতা ও বিক্রেতা শূন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং পশুর হাট। প্রতি সপ্তাহের বুধবার হাটবার হলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই হাটে নেই পশু।
স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোলাচং মৌজার ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ৮০৬ দাগে ৩২ শতক ও ৮০৮ দাগে ১৮ শতক জায়গা ভোলাচং গরুর বাজারের নামে রেকর্ড ভুক্ত। ৮০৮ দাগে মোট জায়গা ৬৫ শতক, এর মধ্যে ৩০ শতক ভোলাচং শ্মশানের নামে ও ১৭ শতক এনিমি প্রপার্টি হিসেবে রয়েছে।
শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সুরুজ খাঁ বলেন, ভোলাচং গরুর বাজারটি স্বাধীনতার পরপরই শুরু হয়েছে, বাজারটি এই অঞ্চলের অন্যতম গরুর বাজার হিসেবে পরিচিত ছিলো। স্থানীয়রা পশু ক্রয় ও বিক্রয়ের জন্য এই হাটের ওপর নির্ভর করতেন। এছাড়া, দূর-দূরান্তের ব্যাপারীরাও হাটে গরুসহ অন্যান্য পশু নিয়ে আসতেন। বাজারটি জমজমাট হওয়ার পর অতিরিক্ত হাসিল আদায় করার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা দিন দিন কমতে শুরু করে। একটি সময় এসে বন্ধ হয়ে যায় পশু কেনা বেচা। নামে বেনামে দখল হয়ে যায় বাজারের জায়গা।
শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল আমিন মুক্তার ও নারায়নপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ইজারাদারদের অত্যাচার ও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের কারণে স্থানীয়রাসহ ব্যাপারী ও খামারিরা ঐতিহ্যবাহী এ হাটে পশু ক্রয় বিক্রয়ে নিরুৎসাহিত হয়ে যাওয়ায় এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে হাট। এই সুযোগে বাজারের জায়গা যে যার মতো করে নিজেদের দখলে নিয়ে নিচ্ছেন।
নবীপুর গ্রামের মাহবুব রহমান ভূইয়া বলেন, ভোলাচং গরুর বাজার এক সময় জমজমাট ছিলো, মানুষের ভিড়ে অনেকে হারিয়ে যেতো, বাজার ছাড়া দিনে এই মাঠে ফুটবল খেলা হতো। এখন আর সেই চিরচেনা দৃশ্য দেখা যায়না। এখন চারদিকে দখল আর দখল।
নবীনগর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আল মামুন বলেন, বাজারের জায়গা অবৈধভাবে দখলে চলে যাওয়ার কারণে ঐতিহ্যবাহী ভোলাচং পশুর হাটটি বিলুপ্তির পথে। সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে বাজারের জায়গা পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হলে এবং ইজারা মুক্ত হলে বাজারটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার প্রভাবশীরা অবৈধভাবে ভোলাচং গরুর বাজারের জায়গা দখল করে তৈরি করছে দোকানপাট, যে জায়গাটি উন্মুক্ত রয়েছে ওই জায়গাটিও পশুর বাজারের নামে ইজারা এনে করছে বালুর ব্যবসা। বৈশাখী মেলা শেষ হয়ে গেলেও এখনো পশুর হাটে রয়েছে ফার্নিচারের দোকান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর বলেন, ভোলাচং পশুর হাটের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল এবং পশুর হাট ইজারা নিয়ে বালুর ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই, কেউ দখল করে থাকলে অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে অভিযান চালানো হবে।
বাজারের ইজারাদার শাহ আলী সওদাগর জানান, এ বছর পশুর হাটটি ১ লাখ ২১ হাজার পাঁচ শত টাকা দিয়ে ইজারা এনেছি। সাপ্তাহিক বাজার বসে না, তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু কেনাবেচার মাধ্যমে বাজারটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

