লোহাগাড়ায় জমির বিরোধে মাদ্রাসা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা

উপজেলা প্রতিনিধি, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

লোহাগাড়ায় জমির বিরোধে মাদ্রাসা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা

লোহাগাড়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবুল কাশেম (৭০) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বোনসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়ন এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কাশেম ওই এলাকার আব্দুর সোবহানের ছেলে। তিনি চরম্বা জামিউল উলুম মাদ্রাসা এর সুপারের দায়িত্বে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আহতরা হলেন— একই এলাকার হারুনুর রশিদ (৪০), শাহ আলম (৩৭) এবং নিহতের বোন সখিনা খাতুন (৫৫)। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে আবুল কাশেমের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শামসুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে শামসুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, জামাল ড্রাইভার ও মো. আদন বিরোধপূর্ণ পুকুরের জমি ভরাট করে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শামসুল ইসলাম, জামাল ড্রাইভার ও মো. ফারুক গাছের গুঁড়ি দিয়ে আবুল কাশেমকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সংঘর্ষে আরও তিনজন আহত হন।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আবুল কাশেমকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে মো. ফোরকান বলেন, “পুকুরের জমি নিয়ে বাবার সঙ্গে চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বুধবার সকালে বাবা মাদ্রাসায় গেলেও বাড়িতে জমি দখলের খবর পেয়ে ফিরে আসেন। প্রথমে আমার ফুফুকে মারধর করা হয়। পরে বাবা বাধা দিতে গেলে জামাল ড্রাইভার, শামসুল ইসলাম ও হারুণ মিলে গাছের গুঁড়ি দিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ জানান, মাদ্রাসা শিক্ষক হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন