প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করা যাবে না: এমপি শ্যামল

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করা যাবে না: এমপি শ্যামল
বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দাদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণকালে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এমপি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট করা যাবে না। প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প নির্মাণ পরিবেশ আইনেও অনুমোদিত নয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুনিয়াউট এলাকায় নিজ বাসভবনে সদর ও বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দাদের দেওয়া একটি স্মারকলিপি গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সদর ও বিজয়নগর উপজেলার সংযোগ সড়কের পাশে পেলুনপুর, রাজাবাড়ি, দক্ষিণ রাজাবাড়ি, নাজিরাবাড়ি, দত্তখোলা, শিমরাইল কান্দি, কাউতলী, ভাদুঘর ও কালাইশ্রীপাড়া এলাকায় বসতভিটা, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে প্রায় ৩০০ ভূমির মালিক স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

শ্যামল বলেন, আমাদের শহরের তিতাস নদীর পূর্বপাশের এলাকাটি একটি প্রাকৃতিক জলাধার। কোনো অবস্থাতেই সেখানে আবাসন প্রকল্প করতে দেওয়া হবে না। দেশে এমনিতেই পানির সংকট রয়েছে। বর্ষাকালে এখানে পানি আসে, পরে তা নেমে গেলেও যে পরিমাণ পানি থাকে, সেটিই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ আইনেও প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ। তার পরও কিছু ভূমিদস্যু ও অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে জলাধার ভরাটের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি সংসদ সদস্য থাকাকালে কোনোভাবেই জলাধার ভরাট করে সেখানে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেব না।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত উপশহর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ২০০ একর কৃষিজমি ও জলাভূমি ভরাট হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। বর্ষাকালে উজানের পানি নামতে না পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া কথিত উপশহরের প্লট ও ফ্ল্যাটের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই জনস্বার্থে এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি বিবেচনায় প্রকল্পটি থেকে সরে আসার দাবি জানানো হয়।

এ সময় জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জমির মালিকদের পক্ষে বশির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ মিয়া, রমজান মিয়া, আনিসুর রহমান এবং হাজী মনু মিয়া মেম্বার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির রায়হান বলেন, ‘আমরা কোনো জমি অধিগ্রহণ করি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সঠিক তথ্য দিতে পারবে।’

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, ওই এলাকার ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন