বুড়িচংয়ে ব্যাংকের জমি থেকে কোটি টাকার মাটি লুট

শাহ আলম শফি, কুমিল্লা (দক্ষিণ)

বুড়িচংয়ে ব্যাংকের জমি থেকে কোটি টাকার মাটি লুট

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেওয়া জমি থেকে কোটি টাকার মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি-আ.লীগ সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্যরা রাতের আঁধারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুড়িচং থানাসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরবতায় কোনোভাবেই মাটি কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রাজিব ব্রীক্স ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় ১৭৫, ১৭৬, ১৭৭ দাগের প্রায় ১৫০ শতাংশ জমি একই উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের আ.লীগের নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাহের এনআরবি নামের একটি বেসরকারি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে পালিয়ে গেলে চেয়ারম্যান জাহেরও আত্মগোপনে চলে যান। চলতি বছরের গত এপ্রিলের শুরুতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য তারিক হায়দারের পৃষ্ঠপোষকতায় স্থানীয় বিএনপি নেতা বশির, ময়নামতি ইউপি সদস্য জাভেদ মেম্বার, রুবেলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন রাতের আঁধারে মাটি কাটা শুরু করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল এনআরবি ব্যাংক কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরিবেশ অধিদপ্তর উপপরিচালক এবং বুড়িচং থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর শাখা ব্যবস্থাপকের পক্ষে খোরশেদ আলম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর থানার নির্দেশে ময়নামতির দেবপুর ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর সুরেজিত বড়ুয়া ২৪ এপিল্র তার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার সত্যতা পান। এর পরও কোনোভাবে মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত ভেকু দিয়ে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে এনআরবি ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তী মাটি কাটার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার কথা স্বীকার করেন। পাশাপাশি তার সঙ্গে জাকির হোসেন কিংবা তার স্ত্রী শিউলী আকতারের কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানান। বিএনপি নেতা বশির বলেন, ‘চেয়ারম্যানের স্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। সেই মতে আমরা মাটি কাটছি।’ জাভেদ মেম্বার মাটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সেটা বেশ কিছুদিন আগে হয়েছে। এখন কেউ মাটি কাটছে না।’ জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি এলাকায় নেই। মাটি কাটা চক্রটি অনেক প্রভাবশালী।’ দেবপুর ফাঁড়ির আইসি সুরেজিত বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আমি খবর নিয়ে দেখছি।’

বিজ্ঞাপন
Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন