চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্যসহায়তার ৫ টন চাল অন্যত্র বিক্রির পর পরিবহনের সময় জব্দ করেছে প্রশাসন। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে শহরের বিপণীবাগ বাজার এলাকা থেকে এসব চাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল গোপনে বিক্রি করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। এর আওতায় সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জেলের জন্য ১১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই চাল বিতরণ করা হয়নি। চাল বিতরণ না হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

জব্দ করা চাল পিকআপে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক শাহাদাত। তিনি বলেন, চাঁদপুর সিএসডি গোডাউন থেকে চাল পরিবহনের ভাড়া নিয়ে তিনি কুমিল্লার লাকসামে যাচ্ছিলেন। চালের মালিকের নাম তাকে জানানো হয়নি। বলা হয়েছিল, লাকসামে পৌঁছালে মালিকের নাম জানানো হবে। তবে পথিমধ্যে হাজীগঞ্জে পৌঁছানোর পর চালগুলো ফেরত নিয়ে আসার জন্য তার কাছে ফোন আসে। এরপর তিনি চাল নিয়ে ফিরে আসেন।

চাল বিক্রির টোকেনে পরিমাণ লেখা ছিল ৪ হাজার ৯৩০ কেজি। তবে সেখানে চালের মালিকের নাম উল্লেখ ছিল না।

চাল বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি খবর পান, জেলেদের বরাদ্দ করা চার টন চাল জেলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর চালগুলো খুঁজে বের করতে অভিযান চালানো হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে চালগুলো জব্দ করা হয়।

প্রত্যয় হাশেম আরও বলেন, তিনি ইতিমধ্যে বার্তা পেয়েছেন, চালগুলো লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ না হওয়ার কারণ জানতে বরাদ্দের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমার

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...