চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ কয়েকটি উপজেলার দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসা। মাদরাসার উদ্যোগে গত রোববার ও সোমবার দুই দিনে এক হাজার পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
মাদরাসার মুহতামিম মুফতি একরাম হোসেন ওদুদী হাফিযাহুল্লাহর নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম আল্লামা জাকারিয়া আজহারী, মাওলানা হাফেজ মাসুম, মুফতি মনসুর সিদ্দিক, সলিমুদ্দিন মাহদী কাসেমী, আনিসুল হক, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা ত্বকী, মাওলানা সুহাইল কাসেমীসহ আল-জামিয়ার একদল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে মুফতি একরাম হোসেন ওদুদী বলেন, “এটি কোনো অনুদান নয়, বরং দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমরা সাধ্যমতো বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই খেদমত কবুল করেন।”
তিনি আরও বলেন, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ইতিহাস শুধু দ্বীনি শিক্ষা ও ইলমের খেদমতেই সীমাবদ্ধ নয়; মানবতার সেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা এবং জাতীয় সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এবারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, “যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না।” এই নববী আদর্শকে ধারণ করেই আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া বিশ্বাস করে, মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো ইবাদতেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করতে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

