উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে পরবর্তী দুই দিন তা আরও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান আমার দেশকে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দেশের চার জেলায় তিনটি নদীর চার পয়েন্টে এখনো জানিয়েছে, বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ তিন ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার নীচে নামলেও গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চার জেলায় তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে- সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর রয়েছে। এরপরও আশা করছি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকা এবং ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল ও পশ্চিমবঙ্গের উজান অঞ্চলে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এর মধ্যেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী একদিন পানির প্রবাহ স্থিতিশীল থাকতে পারে, এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে, মঙ্গলবার সারা দেশেই বৃষ্টিপাত কমে আবহাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, এ অবস্থা দুই দিন অব্যাহত থাকার পর পুনরায় ১৭ জুলাই থেকে উপকূলীয় জেলায় ও সিলেটে ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। তবে ওই সময়ে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।
মঙ্গলবার সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ সিলেটে মাত্র ৪৩ মিলিমিটার ও রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত ছিল না বললেই চলে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমায় তাপমাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এদিন রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি। তবে বর্ধিত ৫ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সরকারের: ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লক্ষাধিক, মৃত্যু ৫৪
দেশের আটটি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ধসসহ বন্যার বিভিন্ন কারণে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে আসায় সরকার এখন উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মঙ্গলবার পিআইডি সম্মেলন কক্ষে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও জরুরি সাড়াদান নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ৮টি জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ৩ হাজার ২৫০ টন চাল এবং শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ড নিয়োজিত রয়েছে।
সভায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বন্যায় আমনের বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হবে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণ উপযোগী ধানের জাত ব্যবহার করে বিকল্প বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

