কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কিশোরনগর গ্রামে পরিযায়ী (অতিথি) পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাখির নিরাপদ বিচরণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে ৯ সদস্যের একটি সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পাশাপাশি আবাসস্থল সুরক্ষায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, প্রয়োজনীয় স্থানে বেড়া বা তারকাঁটা দেওয়া এবং বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন কিশোরনগর গ্রামের পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল পরিদর্শন করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, জমির মালিক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুলতান আহমেদ, বিএনপি নেতা মাসুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বন বিভাগের কর্মকর্তা ও জমির মালিকরা।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে চারটি পরিবারের মালিকানাধীন বাঁশঝাড়, পুকুর ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আশ্রয় নেয়। জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত প্রায় তিন থেকে চার মাস এসব পাখি সেখানে অবস্থান করে। স্থানীয়ভাবে পাখি শিকারের প্রবণতা না থাকলেও মাঝে মধ্যে কিছু ব্যক্তি পাখি ধরার চেষ্টা করে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
পাখির আবাসস্থল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রকৌশলী তফাজ্জলকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা বন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের একটি সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, জমির মালিক রোকনুজ্জামান, অলিউল্লাহ, মাহবুব ও নজরুল ইসলাম এবং কিশোরকণ্ঠ ইউনিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন।
সভায় আবাসস্থলের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রয়োজন অনুযায়ী বেড়া বা তারকাঁটা স্থাপন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আরও বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরনগরের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল ভবিষ্যতেও পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, পরিযায়ী পাখি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

