বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বিপর্যয়ের মুখে মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্প

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বিপর্যয়ের মুখে মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্প
ছবি: আমার দেশ

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট এবং চাহিদার অনুপাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় সমগ্র দেশের সঙ্গে মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্পে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পর্যটনশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জেনারেটর চালাতেও বেড়েছে খরচ। প্রতিদিন পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে পারছেন না পর্যটনশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সারা দেশেই মৌলভীবাজার জেলার চা-বাগান, পাহাড়, ঝরনা, হাওড়, লেকসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের লাখো লাখো পর্যটক মৌলভীবাজার ঘুরতে আসেন। কিন্তু বর্তমানে জেলার শতাধিক হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং বাতিল করেছেন অনেক পর্যটক, এখন মাত্র ৩০ ভাগ বুকিং থাকলেও ৭০ ভাগ নেই। সেইসঙ্গে যারা বেড়াতে এসেছেন, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎভোগান্তির কারণে পাঁচ দিনের বুকিং থাকার পরেও একদিন থেকেই চলে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক। জেনারেটরে অধিক দামে তেল কিনে চালানোয় খরচও বাড়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থায় ব্যবসা ধরে রাখতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রিসোর্ট ম্যানেজার প্রসুন বলেন, পর্যটকরা দু-তিন দিনের বুকিং নিলেও বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য এক দিন পরেই বুকিং বাতিল করে চলে যান। এদিকে পর্যটক খোকন হালদার জানান, বউ ও বাচ্চা নিয়ে ভালো একটা রিসোর্টে বুকিং করে চার দিনের জন্য ঘুরতে এসে বিদ্যুতের কারণে এক দিন পরেই চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ঘনঘন বিদ্যুৎ না থাকায় রিসোর্টগুলোয় এসি চালানো সম্ভব হয় না, জেনারেটরের সাহায্যে ফ্যান চললেও অত্যধিক গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। অন্য পর্যটকরাও একই ধরনের কথা বলেন।

পর্যটক না আসায় লোকসানে পড়েছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, টুরিস্ট গাইড ও চাঁদের গাড়িচালকরা। তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। চাঁদের গাড়ির মালিক শাহিন আহমদ ও চালক আহাদ জানান, তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। এদিকে ঘনঘন লোডশেডিং ও গরমের কারণে বর্তমানে পর্যটকরা এখানে আসতে চান না। এতে করে প্রতিদিন যেখানে দুই থেকে তিনটা ট্রিপ দেওয়া যেত, সেখানে সারা দিনই বসে থাকতে হয়।

ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে আসা অবসরপ্রাপ্ত পাইলট ক্রিশ্চিয়ানা বলেন, বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং ও গরমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান না করলে পর্যটন খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও জানান তিনি।

লেমন গার্ডেন রিসোর্টের নির্বাহী পরিচালক শাহিন মাহমুদ এবং শ্রীমঙ্গলের পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বলেন, দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে একদিকে লোকসান হচ্ছে পর্যটনশিল্পে, তেমনি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও লোকসানে পড়েছেন। পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রতি মাসে বিদ্যুতের সমস্যার জন্য অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা জেনারেটরের তেল খরচে গুনতে হচ্ছে। বিদ্যুতের বিলও অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক জানালেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শ্রীমঙ্গল জানালেন, পর্যটন ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে যেখানে হোটেল-রিসোর্ট বেশি রয়েছে, সেখানে বিদ্যুতের সমস্যা দূর করতে পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন