স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষ

৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ শেষ হয়নি ৩ বছরেও

৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ শেষ হয়নি ৩ বছরেও
৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ শেষ হয়নি ৩ বছরেও। ছবি: আমার দেশ

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী বাংলাদেশের একমাত্র উপজেলা, যেখানে নেই কোনো হাসপাতাল। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত দ্বীপ উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ। রাঙ্গাবালী উপজেলাটি তিনদিকে নদী ও একদিকে সাগর দ্বারা বেষ্টিত। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা মূলত নৌপথনির্ভর এবং দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। রাঙ্গাবালীর চারপাশ জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত, যেখানে নদী ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গম ঘটেছে। যোগাযোগব্যবস্থার এই সীমাবদ্ধতার কারণে এখানকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত এর প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর নির্মাণকাজ শুরু হলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে তা বন্ধ হয়ে যায়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে হলে পাড়ি দিতে হয় ভয়াল আগুনমুখা নদী। এর উত্তাল ঢেউ ও তুফান উপেক্ষা করে নদী পাড়ি দেওয়া অনেকের কাছেই দুঃসাধ্য। তবুও জীবন বাজি রেখে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসার জন্য শহরে নিয়ে যেতে হয়। মাঝনদীতে অসুস্থ রোগীর মৃত্যু, গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাতসহ অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী উপজেলাবাসী। ফলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় ওঝা, কবিরাজ ও পল্লি চিকিৎসকরাই অনেকের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১২টি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও এখানে নেই কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক।

উপজেলার বাসিন্দা তানভীর হাওলাদার কষ্ট ও আক্ষেপ নিয়ে জানান, বাবার মৃত্যুর কিছুদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে। কিন্তু রাঙ্গাবালীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এবং দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতা বিবেচনায় তাকে যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তানভীর হাওলাদার বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না, সময়মতো চিকিৎসা পেলে আমার বাবা বেঁচে থাকতেন কি না। তবে একজন সন্তান হিসেবে আমার মনে সবসময় একটি প্রশ্ন থেকে যাবে—আমাদের এলাকায় যদি একটি ভালো হাসপাতাল থাকত, তাহলে হয়তো সংকটময় মুহূর্তে বাবাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো।

পল্লী চিকিৎসক ইমরান মাহমুদ বলেন, রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া এখানে কিছুই করার নেই। অনেক সময় আমরা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে যাইতে বললে অর্থনৈতিক সমস্যা এবং দূরত্বের কারণে অনেকেই যেতে পারে না। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে এমন ঘটনা এখানে প্রায়ই ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। হাসপাতালের বাকি কাজ শেষ করার জন্য এখন নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য চেষ্টা করছি।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্মাণাধীন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে । রাঙ্গাবালী হাসপাতাল সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে। কারণ, এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন