কুমিল্লার লালমাইয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিএনপির এক পক্ষের নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বাগমারা রেলগেট ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী লালমাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ করিম ও সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরপর থেকে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করে আসছেন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে বাগমারা এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক শাহজাহানসহ কয়েকজনকে বাগমারা রেলগেট এলাকায় বাধা দেওয়া হয় এবং হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা বিএনপির সমর্থকরা ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এমপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা বাজার এলাকা থেকে সরে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি ও আলোচনা সভা শেষে যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে বাগমারা বাইপাস সড়কসংলগ্ন এমপি সমর্থিত জেলা ওলামা দলের সাবেক সদস্যসচিব মাওলানা জাকির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপি সমর্থিত পক্ষের আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক শাহজাহান, মৎস্যজীবী দলের কর্মী মনির হোসেন, শ্রমিক দল নেতা মো. আলী, যুবদল কর্মী মোশারফ ও মোহাম্মদ আলী। অপরদিকে এমপি সমর্থিত পক্ষের আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন ও যুবদল নেতা জামালসহ অন্তত পাঁচজন রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে আহতদের শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমপি সমর্থিত জেলা ওলামা দলের সাবেক সদস্য সচিব মাওলানা জাকির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এমপি সমর্থিতরা হামলা করায় আমাদের কর্মীরাও পাল্টা হামলা করে তাদের এলাকাছাড়া করেছে। রাজপথ ও দলীয় অফিস উপজেলা বিএনপির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমপি সমর্থিতরা বারবার দলীয় কর্মসূচি বানচালের অপচেষ্টা করে আসছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার এক পক্ষের কর্মসূচি ছিল। তারপরও আমরা আগে থেকেই বাগমারা বাজারে পুলিশ মোতায়েন করেছিলাম। সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন, তা জানি না। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ করেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

