কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের রাজনৈতিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় নেতৃত্বের বিকাশ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, মাদক ও র্যাগিংবিরোধী সচেতনতা নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায়ও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে ছাত্রদলের এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন। এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। আমরা যে প্রোগ্রাম করব, সেটিও সবাই জানে।
তিনি বলেন, ‘মাদক ও র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এ প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে আছে কি না, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।
রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। শুধু আমরা নয়, সবারই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
অনুমতির বিষয়ে মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, আমরা যে প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম আমরা মানব না। বর্তমান উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।
রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, এটি একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে মাদক ও র্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে। আর এই প্রোগ্রামে মাদক ও র্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, আমি এই প্রোগ্রামের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, প্রশাসনিক ভবনে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে। প্রশাসনিক ভবনের কোনো কক্ষ বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

