আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেভ দ্য চিলড্রেনের বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  সেভ দ্য চিলড্রেনের বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফে গর্ভবতী মা, প্রসূতি নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষায়িত মা ও শিশু হাসপাতাল চালু করেছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটি দাবি করছে, টেকনাফের চাকমারকুলে চালু হওয়া এই হাসপাতাল স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থী মা ও নবজাতকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞাপন

সেভ দ্য চিলড্রেন পরিচালিত এই হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টা জরুরি ও নিরাপদ প্রসূতিসেবায় কাজ করবে। এছাড়া এই হাসপাতাল রেফারেল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে স্থানীয় অংশীদার ও সরকারের সাথে সমন্বয় করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৬০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে চলমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সিজারিয়ান অপারেশন, জরুরি নবজাতক সেবা ও রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা চালু করা হবে।

সূত্রমতে, হাসপাতালটির চলমান সেবাগুলোর মধ্যে বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগ সেবা, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, ওষুধ সরবরাহ, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসাসেবা, গর্ভকালীন পরিচর্যা, পুষ্টিসেবা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের জন্য সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারেল ও অ্যাম্বুলেন্স-সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সেভ দ্য চিলড্রেনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। সরকার এই হাসপাতালের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারের পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রত্যেক মায়ের নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার এবং প্রতিটি শিশুর সুস্থ জীবনের সূচনা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কক্সবাজারে অনেক নারী গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের সময় প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির মুখে পড়েন। এই হাসপাতাল সেই বিশেষায়িত সেবাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে এই হাসপাতাল রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র বলছে, ২০২৫ সালে বৈদেশিক সহায়তা ও দাতা অর্থায়ন হ্রাস পাওয়ায় কক্সবাজারে একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এই হাসপাতাল উখিয়া ও টেকনাফের স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় শূন্যতা পূরণ করবে।

প্রসঙ্গত, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে এবং কক্সবাজারে ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার প্রকল্প চালিয়ে আসছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...