কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের একাংশের মানববন্ধন ও শাখা ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনের পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে তিনি আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর করে আগের কর্মস্থলে ফিরে যাব।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে থেকে জানা যায়, গত বুধবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ পৃথক ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার জন্য কারও নিকট কোনো দাবি কিংবা তদবির করিনি। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও উপাচার্য হিসেবে থাকার জন্য কোনো মন্ত্রী, এমপি, সচিব বা শিক্ষক নেতাদের নিকট চেষ্টা করিনি। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আমি আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর করে পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে উপাচার্য পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা ব্যাহত হয়েছে, সেশনজট বেড়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটেনি। আমি চাই, পদত্যাগ ইস্যুতেও যেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব না পড়ে। সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে সেটি সম্ভব হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “কুমিল্লা মেধাবী মানুষের স্থান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ইউজিসির র্যাংকিংয়ে এটি তৃতীয় শ্রেণির অবস্থানে রয়েছে। অতীতে প্রায় সব উপাচার্যের সময়েই ক্যাম্পাস অশান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। কুমিল্লাবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ, দলমত নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন এবং এটিকে দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে সহযোগিতা করুন।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীদের একাংশ এবং শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

