সরকারি চাকরিতে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

সরকারি চাকরিতে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশে নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাত ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের 'আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই', 'তদবিরের ঠাঁই নাই', 'ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে', '২৪-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার', 'একশন, একশন, ডাইরেক্ট একশন', 'কমিটি গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে', 'নোবিপ্রবির একশন, ডাইরেক্ট একশন', 'তদবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশন', 'কোটা না মেধা—মেধা, মেধা' ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘অতীতে লিখিত পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখার পরও রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সরকারের সমালোচনার কারণে অনেক প্রার্থী ভাইভায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ফলে ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের সুযোগ আরো বাড়তে পারে।’

এ সময় আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে নোবিপ্রবি শিবির সেক্রেটারি আব্দুর রহমান বলেন, ‘আগস্টে আমরা যে জুলাই আন্দোলন সংঘটিত করেছিলাম, সেখানে আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারির চেষ্টা করছে, যেখানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে এনে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘যোগ্যতা যাচাই না করে পছন্দের ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া কিংবা দলীয়করণের উদ্দেশ্যে কোটাব্যবস্থার পরিবর্তে এখন ভাইভার মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, জালিয়াতি ঠেকাতে না পেরে ভাইভার নম্বর বাড়ানো সরকারের ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।’

উল্লেখ্য, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর মাধ্যমে নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন