মায়ের স্বপ্নপূরণের পথে অদম্য মেধাবী ইমন কাজী

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

মায়ের স্বপ্নপূরণের পথে অদম্য মেধাবী ইমন কাজী

কাজী মনিরুল ইসলাম। দিনমজুরের কাজ করেন। তার স্ত্রী অসুস্থ। দিনমজুরির সামান্য আয়ে কোনোরকমে দিন কাটে তার। বসতঘরটা ভেঙে পড়েছে প্রায়। বৃষ্টি হলে ভিজে যায় ঘরের আসবাব। এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইমন এগিয়ে চলেছেন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের বেড়াখলা গ্রামের কাজী মনিরুল ইসলামের ছেলে মো. ইমন কাজী। চলতি বছর খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইমন মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ায় এলাকাবাসী খুবই খুশি। তবে তার পরিবার পেরেশান মেডিকেলে পড়ালেখার খরচ জোগাড়ে।

ইমন কাজী চার ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় বোন ইসরাত জাহান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তৃতীয় বোন একাদশ শ্রেণিতে, ছোট ভাই ৫ম শ্রেণিতে।

২৯ জানুয়ারি কথা হয় ইমনের সঙ্গে। বাবা কাজী মনিরুল ইসলাম কাজে গেছেন শিদলাইয়ে। পাশে ছিলেন তার মা ও বোন। ইমন জানান, ২০২২ সালে পোমকারা ছিদ্দিকুর রহমান অ্যান্ড হাকিম উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেন পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজ থেকে। পান জিপিএ-৫।

ইমন বলেন, আমরা দুই ভাই দুই বোন। বাবা দিনমজুর। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের পরিবার চালান। আমার পড়াশোনা খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। তখন আমার পাশে এলাকার বিভিন্ন সংগঠন দাঁড়িয়েছিল। তাদের সহযোগিতায় এতদূর আসা। আমার স্কুল, কলেজের শিক্ষকরা বেতন নিতেন না। বই খাতা দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করতেন। আম্মু আব্বুর খুব আশা পড়ালেখা করে আমি বড় কিছু হই। খুলনা মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছি। আম্মু প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাইলসের সমস্যায় ভুগছেন। আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে ডাক্তার হবো। মা-বাবা এবং মানুষের সেবা করব। সেই আশা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।

ছেলের সাফল্যে কাঁদলেন মা মাসুদা বেগম। বলেন, ছোটবেলা থেকে আশা ছিল ছেলেকে ডাক্তার বানাবো। আল্লাহ আমার সেই আশা পূরণ করেছেন।

কথা হলো ইমনের বড় বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মীমের সঙ্গে। জানান, নিজের টিউশন ও বৃত্তির টাকা জমিয়ে ভাইকে মেডিকেল কোচিংয়ে ভর্তি করিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত আছে। আল্লাহ আমাদের মেধা দিয়ে উন্নত করতে চাচ্ছেন। বাবা-মায়ের কষ্ট দেখে অনেক কাঁদতাম, তাও পড়াশোনা ছাড়িনি। আমার খালাতো ভাই পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভাই আমাকে তাদের বাসায় রেখে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমার ভাই মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমাদের কাছে ভর্তি করানোর টাকাও নেই। এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা আমাদের জন্য সবসময় আছে। ভাইয়ের কাছে আমার চাওয়া, আমার মা-বাবা যেন কোনো কষ্ট না পায়।

পোমকারা ছিদ্দিকুর রহমান অ্যান্ড হাকিম উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ইমনের সাফল্যে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। দোয়া করি ছেলেটা একদিন দেশের নামকরা ডাক্তার হয়ে আমাদের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। দেশের জন্য অবদান রাখবে।

পোমকারা ছিদ্দিকুর রহমান অ্যান্ড হাকিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ইমন মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। ইমন ও তার পরিবারের প্রতি সবসময় আমাদের সহযোগিতা ছিল, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে। তাকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করব বলে আশ্বাস দিয়েছি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, ইমনকে অন্তর থেকে অভিবাদন জানাই। সে এই উপজেলার গর্ব। খুবই মেধাবী ছেলে। তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তার পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...