নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার। মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোয় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সদর উপজেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।
দীর্ঘদিন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য থাকায় নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, পিংকি আক্তার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ফতুল্লা থানায় ২০২৩ সালে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রাসেল মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মেম্বার ও বিতর্কিত সিকান্দার মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও বক্তাবলী ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেম্বার আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে এসব আওয়ামী লীগ নেতা আবারও প্রকাশ্যে ফিরছেন। এদের মধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার রাসেল চৌধুরী ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেন উল্লেখযোগ্য।
রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। অন্যদিকে আমজাদ হোসেন ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা আত্মগোপনে থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক পোস্টও করেছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লার একাধিক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতনে আমরা অনেক ভাই হারিয়েছি। শামীম ওসমানের দোসররা আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি ও বাড়িঘরে হামলা করেছিল। সেই সব দোসরদের নিয়ে এখন পিংকি আক্তার ইউএনওকে ফুল দিতে যান। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বক্তাবলীতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি গোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে। বিতর্কিত এই কর্মকাণ্ডের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তারা তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

