আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সাক্ষাৎকারে সাঈদ আল নোমান

শিক্ষার প্রসার ও মানুষের সেবাই আমার আজীবনের অ্যাসাইনমেন্ট

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

শিক্ষার প্রসার ও মানুষের সেবাই আমার আজীবনের অ্যাসাইনমেন্ট

গাড়ি থেকে নামার পর সেই দৃশ্যটি সত্যিই এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে। স্মার্ট ও সুদর্শন একজন তরুণ, কপালে ডান হাত ঠেকিয়ে হাসিমুখে সবাইকে সালাম দিচ্ছেন। এই সাধারণ অথচ বিনম্র ভঙ্গিটিই উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে তোলে। হাতে হাত রাখা, চোখে চোখ রেখে কথা বলা আর প্রতিটি মানুষের প্রশ্নের অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় উত্তর দেওয়া—সব মিলিয়ে এক অনন্য ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন।

রাজনীতিকে যারা নিছক ক্ষমতার চর্চা নয়, বরং মানুষের সেবার ব্রত হিসেবে দেখেন, তিনি তাদেরই একজন। তার প্রতিটি কথা আর দর্শনে মিশে আছে একটি সুশিক্ষিত ও আদর্শিক জাতি গঠনের স্বপ্ন। শৃঙ্খলা, গভীর দায়িত্ববোধ এবং অমায়িক ব্যবহারের কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তিনি ইতোমধ্যেই নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আর কেউ নন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য তরুণ রাজনীতিবিদ সাঈদ আল নোমান। গত দুই দশক ধরে যিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি নিজের এই কাজের প্রতি অদম্য নিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসার ও মানুষের সেবাই আমার আজীবনের অ্যাসাইনমেন্ট।

সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান প্রয়াত মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী) আসন থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৯১৯ ভোট। ভোটের হিসেবে সাঈদ আল নোমান ৫৯.৮৭ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাঈদ আল নোমান জানান, শিক্ষা নিয়ে তার পথচলা ২ দশকের। যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে। এছাড়াও অসংখ্য সামাজিক, শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান গড়েছেন নিজ হাতে৷ বিএনপির রাজনীতিতে কিংবদন্তি হিসেবে খ্যাত তার বাবা প্রয়াত মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের দেখানো পথেই জীবনের বাকি সময়টুকু পার করতে চান বলেও জানান তিনি। তার কথাবার্তা, চাল-চলন বলে দিচ্ছে মানুষের সেবা আর ঘুণে ধরা সমাজটাকে বদলে দিতে নিজেকে সঁপে দিতে প্রস্তুত সংসদের এই তরুণ জনপ্রতিনিধি।

তিনি জানান, জীবনের গত ২০ বছর শিক্ষায় জড়িয়েছিলেন। এক মুহুর্তের জন্য পড়াশোনা থেকে সরে যাননি। দেশে ও বিদেশে নিজেও পড়েছেন, পড়িয়েছেন অনেককে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার এই দীর্ঘ পথচলার গল্প বলতে গিয়ে সাঈদ আল নোমান উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠান গড়াতেই তিনি মনোযোগী ছিলেন। এখনও পরিশ্রম, একাগ্রতা দিয়ে নানা প্রতিষ্ঠান গড়তে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমি থেকে পাবলিক পলিসি এণ্ড পাবলিক এডমিন থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। একইসাথে তিনি কমপ্রেরেটিভ সোস্যাল পলিসি বিষয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এনফিল করেছেন। এছাড়াও তার গবেষণার বিষয় ছিল ই-গর্ভন্যান্স আইসিটি পাবলিক সেক্টর।

সাক্ষাৎকারে সাঈদ আল নোমান নিজেকে সংস্কৃতিমনা মানুষ উল্লেখ করে বলেন, নব্বইয়ের দশকে আমি নতুনকুড়ি থেকে চট্টগ্রাম জেলার হয়ে প্রতিযোগিতা করেছি। কৈশোরকাল থেকেই একক আবৃত্তি, গান, নজরুল ও রবীন্দ্র সংগীতে আমার ঝোঁক ছিল বেশি৷ এখনও সময় পেলে পর্দায় কিংবা পর্দার বাইরে গলা ছেড়ে গাই। সাঈদ আল নোমান জানান, আমি আজীবন লার্নার থাকতে চাই। বলার চেয়ে শুনতে বেশি পছন্দ করি৷ অতীতেও শিক্ষানবিশ ছিলাম, সামনেও শিক্ষানবিশ থাকতে চাই।

তিনি জানান, আমাদের ভোটারদের ৬০ ভাগই ১৮-৪০ বছর বয়সী। তারা কেউই দুর্নীতি চায় না। তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ চায়। মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ চায় তারা। তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় ভালো এক্সপার্টস চায়। ১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের মাঝে তৃষ্ণা ছিল। কারণ দুর্নীতি বিগত ১৭ বছরে আমাদেরকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিল যে মানুষ সেটা থেকে মুক্তি চাই। এজন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার দলকে আবারও পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে। তবে জনগণের রায়ে শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষায় বিএনপি পাশ করেছে।

বিএনপি সম্পর্কে সাঈদ আল নোমান বলেন, বিএনপিতে নেতাদেরকে মমত্ববোধ, দেশপ্রেম, হৃদয় দিয়ে কাজ করতে দেখেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান গৃহহীন ছিলেন। তার ভাইকে হারিয়েছেন, মাকে হারিয়েছেন। তিনি তো প্রতিহিংসাপরায়ণ হতে পারতেন। কিন্তু তার বদলে তিনি জনগণের প্রতি দায় ও দরদের রাজনীতি করছেন।

সাঈদ আল নোমান নিজ শহর চট্টগ্রাম সম্পর্কে বলেন, ২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া এই নগরীকে বন্দরনগরী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং মন্ত্রী পরিষদে পাশ করেন। কিন্তু ৫৫ বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রাম পাওয়ার সেই স্বপ্ন অধরা থেকে গেছে। আমার বাবা মরহুম আব্দুল্লাহ আল নোমান বাণিজিক্য রাজধানীর সেই ১৬ দফা নিজ হাতে ড্রাফট করেছিলেন। সেটি বাস্তবায়ন করা হলে চট্টগ্রামে মন্ত্রী সভার মিটিং হবে, ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় হবে, টেকনিক্যাল ইন্সটিউট হবে, পর্যটন নগরীর হিসেবে নানা উদ্যোগ হবে। কিন্তু যেটা কারো কাজে আসে না সেরকম টানেল ও উড়াল সেতু হয়েছে। এগুলো অকেটাই অকার্যকর বর্তমানে। এসব টাকা দিয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল করা যেতো। যা অনেক মানুষের উপকার হতো।

চট্টগ্রামের পাহাড় কাটা নিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরের মাস্টারপ্যান অনুসরণ করা হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে শহরটি। এমন সব উন্নয়ন করা হয়েছে যেগুলো অধিকাংশ জনতার কোনো কাজে আসে না। পাহাড়, নদী ও জলাশয় ও খাল রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সংস্থাগুলোর ভালো সমন্বয় দরকার। আর পরিবেশ আইনেরও কিছু পরিবর্তন করা দরকার।

সাঈদ আল নোমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার জীবন দর্শনই আমার রাজনীতি। আমি রাজনীতিকে সেবার অংশ তথা ইবাদত মনে করি। রাজনীতিতে মানবতাবোধ ও মমত্ববোধ কাজ করতে হবে। তাহলেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করা যায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন