ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে স্বাক্ষর না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ও জেলা যুবদলের সদস্য মো. মাহবুব রহমানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা কেএম মামুনুর রশীদের দাওয়াতে তার বাড়িতে যান নাজমুল করিম। সেখান থেকে ফেরার পথে রাস্তায় বের হওয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে গোটা নবীনগরে।
জানা যায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদ ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করার পর সভাপতির পদটি শূন্য হয়ে যায়।
ওই পদ পেতে তদবির শুরু করেন জেলা যুবদলের সদস্য মাহবুব রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতির অনুমোদন পেলেও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন না পাওয়ার কারণে সাধারণ সম্পাদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে নাজমুল করিম রাতে আমার দেশকে বলেন, সাহারপাড় গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে চলে আসার সময় কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা কেএম মামুনুর রশীদ ভাইয়ের বাড়ির সামনের রাস্তায় এলে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির শূন্য পদের প্রার্থী মো. মাহবুব রহমানসহ আরো কয়েকজন আমার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য অপহরণের চেষ্টা করে। এ বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি। তাদের পরামর্শক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরো বলেন, মাহবুব রহমান ইউনিয়ন বিএনপির কোনো পদে নেই। সভাপতি মারা যাওয়ার পর থেকে সিনিয়র সহসভাপতি রোকন উদ্দিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আমার প্রস্তাব ছিল, ওই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড কমিটির সবার মতামতের ভিত্তিতে রেজুলেশন এনে দিলেই আমি সভাপতি পদে স্বাক্ষর করব। মাহবুব রেজুলেশন আনতে পারেননি, আমিও স্বাক্ষর করিনি। এটাই ছিল আমার অপরাধ। সে কারণেই আমার ওপর হামলা।
অভিযুক্ত মাহবুব রহমান হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদ মারা যাওয়ার পর পদটি শূন্য হলে ওই পদে আমি প্রার্থী হয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের অনুমোদন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের অনুমোদন পাওয়ার জন্য আমার আবেদনপত্র তার কাছে জমা দিই। এরপর তিনি আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। আমি টাকা না দেওয়ার কারণে এক বছর হয়ে গেলেও তিনি অনুমোদন না দিয়ে আবেদনটি ফেরত দিয়েছেন। আজ এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে গালমন্দ শুরু করেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। হামলা কিংবা লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, আলামত দেখে মনে হচ্ছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। আমার সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমন ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দের কাছে দাবি করছি।
এদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ