হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ঝড়ে লাইনের ওপর গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। এই সংকটকালীন সময়ে সন্দ্বীপবাসীকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ তীব্র ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো সন্দ্বীপ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে পুরো উপজেলা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে শুধু সন্দ্বীপেই নয়, বরং মূল ভূখণ্ড চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও বাড়বকুন্ডের বিভিন্ন স্থানেও গাছ উপড়ে পড়েছে। এর ফলে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল উৎস ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রহমতপুর, হারামিয়া, হরিশপুর ও দীর্ঘাপাড়সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক স্থানে বিদ্যুতের মেইন লাইনের ওপর বড় বড় গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় খুঁটি ও তার ছিঁড়ে লণ্ডভণ্ড অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে গতি ব্যাহত হচ্ছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) তানভীর হায়দার আমার দেশকে জানিয়েছেন, "ঝড়ের স্থায়িত্ব বা ব্যাপ্তি কম হলেও, এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। মূল লাইনের বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। আমরা দ্রুত সংযোগ সচল করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।" বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে তিনি সন্দ্বীপের সর্বস্তরের জনগণকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্দ্বীপের সাধারণ জনজীবন যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে, তেমনি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ফ্রিজিং করা পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার মুরগির পোল্ট্রি ফার্মের মালিকেরা। প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম এবং বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত বাতাস ও পানির অভাবে ইতিমধ্যেই অনেক খামারে মুরগি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পোল্ট্রি খাতে লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি ও খামারিদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

