কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পানি জমে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর ক্লাসে যাতায়াত ও স্কুল মাঠে খেলাধুলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে কোনোমতে পাঠদান চললেও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ফরিদগঞ্জ বালিকা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর অদূরে বিদ্যালয় দুটির অবস্থান। সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের মাঠটি কিছুটা নিচু। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই খেলায় মাঠ ডোবায় পরিণত হয়। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা এই পানি জমে থাকে। পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, সমাবেশ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, খেলাধুলা, এমনকি চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থী আছিয়া, শুভ, তানীমসহ কয়েকজন জানান, পানির কারণে বিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা হয়। মাঠের ঘাস ও আগাছা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। মশার বংশবিস্তার হয়। অ্যালার্জিসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চায় তারা।
ফরিদগঞ্জ বালিকা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম রব্বানি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে ৩৩৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনপত্র দিয়েছি পানি নিষ্কাশনের জন্য।
ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলেয়া খাতুন বলেন, আমাদের স্কুলে ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পানি জমে থাকার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মাঠ সংস্কারের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও আশার আলো দেখছি না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অ.দা:) মো. গাউছুল আজম পাটওয়ারী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সুলতানা রাজিয়া বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

