আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চট্টগ্রাম বন্দরে চলছে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দরে চলছে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া বন্ধ ও কর্মচারীদের গণহারে বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে শ্রমিক-কর্মচারীরা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে আসবেনা ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। আমরা আমাদের দাবিতে অনঢ় থাকব।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে বন্দরের চার নম্বরগেটসহ অন্যান্য গেটে কোন ট্রাক-লরী প্রবেশ করেনি। শ্রমিকরাও কাজে যোগ না দিয়ে বাইরে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়াও বদলি করা কর্মচারীরাও কর্মস্থলে যোগ দেননি। এর আগে গত শনিবার থেকে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে টানা তিন দিন অবরোধ

কর্মসূচি পালন করছিল শ্রমিকরা। এতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল অংশ নেয়। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংগঠন দুটির সমন্বয়ে গঠিত বন্দর রক্ষা পরিষদ।

দেশের অর্থনীতির হৃৎপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দরে টানা অবরোধ চলায় দেশের আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দরের সব কার্যক্রমে ইতিমধ্যে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। তবে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহি:নোঙরে শতাধিক জাহাজ পানিতে ভাসছে। এসব জাহাজে আসন্ন রমজানের ভোগ্য পণ্যই বেশি রয়েছে। এই অবরোধ চলতে থাকলে রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামে বিরাট প্রভাব পড়বে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি দাম গুণতে হবে।

গত মঙ্গলবার ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতি শেষ হওয়ার আগেই বন্দর রক্ষা পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করে। শ্রমিক নেতারা জানান, আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করেছে। যদিও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।

শ্রমিক নেতা ও আমদানি-রপ্তানিকারকরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের এই অচলাবস্থার জন্য সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষই দায়ী। এখনও পর্যন্ত তারা বিষয়টি সুরাহায় কোন উদ্যোগে গ্রহণ করেনি। বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে সরকার দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়েছে বলে মনে করেন তারা।

যদিও নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসাইন জানিয়েছেন, রমজানের আগে শ্রমিকদের এই আন্দোলন সন্দেহজনক। রমজানে জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে এটি পরিকল্পিত কিনা খতিয়ে দেখা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...